দিনাজপুরের হিলি রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রী ছাউনি, পর্যাপ্ত বসার স্থান এবং শৌচাগারের অভাবে যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে নারী যাত্রীদের জন্য পরিস্থিতি আরও নাজুক। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনটির আধুনিকায়ন ও যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের জোর দাবি উঠেছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।
সীমান্তবর্তী হিলি স্থলবন্দরের কাছে অবস্থিত হওয়ায় এই রেলস্টেশনটি অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াতের মাধ্যম। তবে স্টেশনে যাত্রী ছাউনি না থাকায় বর্ষার বৃষ্টিতে ভিজে এবং শীতের কুয়াশার মধ্যে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হয় যাত্রীদের। এছাড়া, পর্যাপ্ত শৌচাগারের অভাব এবং নারীদের জন্য পৃথক টয়লেটের ব্যবস্থা না থাকায় তারা চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন। অনেক সময় একটি মাত্র টয়লেটেও পানির সরবরাহ থাকে না।
যাত্রীরা আরও জানান, স্টেশনে একটি মাত্র প্ল্যাটফর্ম থাকায় ট্রেন যখন দুই নম্বর লাইনে দাঁড়ায়, তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের ট্রেনে উঠতে হয়। তারা দ্রুত যাত্রী ছাউনি, বসার স্থান এবং সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
হিলি রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার জয়ন্ত চক্রবর্তী যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, শীত ও বর্ষায় যাত্রীদের প্রচুর সমস্যা হয়। এসব সমস্যার দ্রুত সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। ইতোমধ্যে, গত ১৫ জুন রেলওয়ে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে চাহিদা অনুযায়ী একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত ২২ জুন পাকশীর পশ্চিম জোন থেকে রেলওয়ে কর্মকর্তারা হিলি স্টেশনের সমস্যাগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন এবং প্রতিনিধি দলটি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
দিনাজপুর হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী জানান, হিলি স্থলবন্দর দেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য কেন্দ্র। এই স্টেশন থেকে বিপুলসংখ্যক যাত্রী ও ব্যবসায়ী প্রতিদিন যাতায়াত করেন। তিনি সরকারের কাছে অবিলম্বে স্টেশনের আধুনিকায়ন ও যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন। যাত্রীদের এই দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।